Showing posts with label Risen Christ. Show all posts
Showing posts with label Risen Christ. Show all posts

Sunday, April 5, 2026

এম্মাউস হয়ে ফের জেরুসালেমের পথে

 


হারানো আশা, দানশীলতার মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা বিশ্বাস

এম্মাউসের দুই শিষ্যের গল্পকে এমন একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখা যায় যেখানে আধ্যাত্মিক অন্ধত্ব থেকে পুনরুত্থিত প্রভুকে চিনতে পারার পরিবর্তন  ঘটে। এখানে আমি তিনটি ধাপ নিয়ে কথা বলব, যেগুলো আজ আমাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা বহন করে

 

শুধু মানবিক বোঝাপড়া আমাদের পথভ্রষ্ট করে

এম্মাউসের পথে চলা শিষ্যরা কেবল মানবিক ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতাকে তুলে ধরে। তারা ঘটনাগুলো জানত—ক্রুশবিদ্ধ হওয়া, খালি সমাধির গুজব—কিন্তু সেগুলো ছিল শুধুই তথ্য। এই তথ্যগুলো তাদের কাছে ছিল একটি “সমাধি”, একটি “ব্যর্থতা”, একটি “অচল পথ”। ‘আমরা আশা করেছিলাম তিনিই ইস্রায়েলকে মুক্ত করবেন।’ সবকিছু অতীতের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। আশা ইতিমধ্যেই মরে গিয়েছিল


এই অনুভূতি আমাদের বর্তমান সময়ের সঙ্গেও মিলে যায়। আমরা তথ্যের মধ্যে ঘেরা, কিন্তু প্রায়ই অর্থহীনতার মধ্যে আটকে থাকি। সংবাদ, দুঃখ-কষ্ট, বিরোধ—এসব যদি শুধুই মানবিক বিশ্লেষণে দেখা হয়, তবে তা হতাশার দিকে নিয়ে যায়। শিষ্যদের কথোপকথন আমাদের মতোই: অর্থহীন তথ্য আলো নয়, বরং বোঝা হয়ে ওঠে। তাদের চিন্তাভাবনা নিজেদের সীমাবদ্ধ ধারণার মধ্যে আটকে ছিল, যা পুনরুত্থানের গভীরতা ধরতে পারে না


আমরাও কতবার বিশ্বাসকে শুধু যুক্তি, সমাজ বিশ্লেষণ বা সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করি? এতে ঈশ্বরীয় প্রাণশক্তির অভাব থাকে, যা আধ্যাত্মিক শক্তিকে ক্ষীণ করে দেয়

 

সহযাত্রী হিসেবে যীশু : বোঝার বিস্তার

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যীশু  তাদের সঙ্গে হাঁটতে শুরু করলেও সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে প্রকাশ করেন না। বরং তিনি প্রথমে শোনেন—‘তোমরা কী নিয়ে কথা বলছ?’—তারপর শিক্ষা দেন। তিনি তাদের কষ্টকে ছোট করে দেখেন না, বরং ধৈর্যের সঙ্গে বোঝান: ‘মোশি ও সব নবীদের থেকে শুরু করে শাস্ত্রে তাঁর সম্পর্কে যা লেখা আছে তা তিনি ব্যাখ্যা করেন।’


যীশু  জোর করে বোঝান না। তিনি তাদের বোঝার পরিধি বাড়াতে আহ্বান জানান। ধীরে ধীরে তিনি তাদের সীমাবদ্ধ চিন্তা থেকে বের করে আনেন। তাদের কল্পিত মশীহ ধারণা শাস্ত্রের আলোতে গভীর ও বিস্তৃত হয়। নবীদের বার্তা জীবন্ত, মৃত নয়


সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো—তারা মন দিয়ে শুনলেও তখনো তাঁকে চিনতে পারেনি। চিনতে পারা আসে পরে। তখনও তাদের আশা দোদুল্যমান, তবুও তারা তাদের সহযাত্রীকে আতিথ্য দেয় (রুটি ভাঙার মাধ্যমে)


ডন বস্কোর সালেসীয়ানদের  ২৯তম সাধারণ অধ্যায়ের সূচনালগ্নে সংঘ-প্রধান শ্রধ্যেয় ফাদার ফাবিও আটার্ড প্রস্তাব করেন যে আমরা যেন নিজেদেরকে এম্মাউসের শিষ্যদের (লূক ২৪:১৩–৩৫) বাইবেলীয় চিত্র দ্বারা আলোকিত হতে দিই এবং এটিকে আমাদেরকে সেই বিচক্ষণতার শিল্পে প্রবেশ করাতে দিই, যা আমাদের জীবনধারাকে ক্রমশ আরও সুসমাচারমুখী রূপে রূপান্তরিত করতে পারে। এই বিচক্ষণতা বিশেষভাবে স্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সেইসব মুহূর্ত ও পথে, যা নিবেদিত জীবনের একটি পরিবারের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ—যেমন একটি সাধারণ অধ্যায়


আত্মার মধ্যে সংলাপের প্রক্রিয়ার একটি আদর্শ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আগে—যা ২০২১–২০২৪ সালের “সিনড অন সিনডালিটি”-তে যৌথ আলোচনার জন্য একটি ফলপ্রসূ পদ্ধতিগত উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল—লূকের সুসমাচারের এই অংশটি ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত “যুবসমাজ, বিশ্বাস এবং আহ্বানের বিচক্ষণতা” বিষয়ক সিনডের জন্য অনুপ্রেরণা ও আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেছিল। “খ্রীষ্টুস ভিভিত্” অনুসারে, এম্মাউসের শিষ্যদের উদাহরণ যুব প্রৈরতিক (পাস্তোরাল) কাজেও একটি মডেল হতে পারে, যা একটি “ধীর, সম্মানজনক, ধৈর্যশীল, বিশ্বাসপূর্ণ, ক্লান্তিহীন, সহানুভূতিশীল প্রক্রিয়া”

দুই ধরনের একসাথে যাত্রা

এই দৃশ্যটি আমাদের সামনে একটি একসাথে যাত্রার ছবি তুলে ধরে। প্রকৃতপক্ষে, বিশ্রামদিনের পর প্রথম দিনে দুটি ভিন্ন ধরনের একসাথে যাত্রা দেখা যায়। একটি যাত্রা হচ্ছে জেরুজালেম থেকে দূরে যাওয়ার পথে—সংঘবদ্ধ পরিবার (কমিউনিটি) থেকে দূরে, শুক্রবার ও শনিবারের কষ্টকর অভিজ্ঞতা থেকে দূরে, ক্রুশ থেকে দূরে এটি একটি ভৌগোলিক এবং অন্তর্দৃষ্টিগত নিম্নগামী যাত্রা, যেখানে পা ও হৃদয় হতাশা, শোক, তিক্ততা এবং পরাজয়ের ভারে ক্লান্ত। তাদের কথোপকথন সংকীর্ণ, যা তাদের মুখকে বিষণ্ণ করে তোলে: “আমরা আশা করেছিলাম তিনিই ইস্রায়েলকে মুক্ত করবেন...”

        আরেকটি যাত্রা আছে—ফেরার যাত্রা, গভীর রাতে, জেরুজালেমের দিকে, কমিউনিটির দিকে, জীবনের দিকে। চারদিকে অন্ধকার, পথ উঁচু, কিন্তু পা যেন উড়ছে; চোখ আনন্দে ঝলমল করছে এবং হৃদয় জ্বলছে সেই সাক্ষাতের আগুনে, যা অন্তরের অনুভূতিগুলোকে মুক্ত করে, আলোয় উন্মুক্ত করে এবং অন্যদের সাথে তা ভাগ করে নেওয়ার এক অপ্রতিরোধ্য আকাঙ্ক্ষা জাগায়

এই দুই যাত্রার মাঝখানে রয়েছে একটি সাক্ষাৎ। দুই পথিক হয়ে ওঠে তিনজন। তৃতীয়জন তাদের কাছে এগিয়ে আসে—সেই পথে, যেখানে তারা জীবন থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল। তিনি কোনো জোরপূর্বক দিক পরিবর্তন করেন না; বরং তাদের কাছে আসেন, তাদের সাথে নেমে যান, তাদের মধ্যে প্রবেশ করেন, শোনেন—যতক্ষণ না সম্পর্কের ক্ষেত্রটি একটি প্রশ্নের জন্য উন্মুক্ত হয়: “তোমরা হাঁটতে হাঁটতে কী নিয়ে আলোচনা করছ?”

এটি হৃদয়কে সেই যন্ত্রণার বোঝা থেকে মুক্ত করার একটি সুযোগ, যা দিনের আলো থাকা সত্ত্বেও দৃষ্টিকে বাধা দেয়। পথ দ্রুত এগিয়ে চলে, জেরুজালেম থেকে দূরে যাওয়ার যাত্রা শেষ হয়, কিন্তু তাদের হৃদয়, যা এখন জ্বলছে, একটি উষ্ণ ও অনুরোধপূর্ণ আহ্বানে প্রকাশ পায়:
আমাদের সঙ্গে থাকুন, কারণ সন্ধ্যা হয়ে এসেছে এবং দিন প্রায় শেষ।”

ঈশ্বর প্রবেশ করেন এবং সেখানে থাকেন—জেরুসালেম থেকে দূরে, তাদের সঙ্গে। সেই দূরবর্তী স্থানেই দুই শিষ্য বুঝতে পারে যে যীশু  তাদের খুঁজে পেয়েছেন, সান্ত্বনা দিয়েছেন, পুষ্ট করেছেন এবং সুস্থ করেছেন—তাদের দুঃখ ও কষ্টের মধ্যে তাদের সঙ্গে নেমে এসে

            রুটি ভাঙার (ছেড়ার)  মাধ্যমে পুনরুদ্ধার হয়ে, হৃদয়ের অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে, তারা আর বাইরের রাতকে ভয় পায় না: যীশু  এখন তাদের মধ্যে, একটি অন্তর্নিহিত উপস্থিতি। আর মিশন তাদের তাড়িত করে! তাদেরকে তাড়িত করে সঙ্গে সঙ্গে জেরুজালেমে ফিরে যেতে—শিষ্যদের দলের কাছে। মিলিত হতে, একত্রিত হতে, আবার একে অপরকে খুঁজে পেতে, একসাথে চলতে এবং সবাইকে জানাতে যে রাত এখন আলোকময়

এক ধরনের একসাথে চলা আছে যা ঈশ্বর থেকে দূরে—অন্তর্মুখী, আত্মকেন্দ্রিক, আলো থেকে বিচ্ছিন্ন; যা আমাদের বোঝা, কষ্ট ও অসুস্থতাকে ঘিরে ধরে এবং আমাদের হতাশায় বন্দি করে রাখে। এটি এমন একটি যাত্রা যা অন্তরের অনুভূতিগুলোকে নিভিয়ে দেয়, হৃদয়কে ভালোকে চিনতে অক্ষম করে তোলে, এবং এমন এক যন্ত্রণায় নিমজ্জিত করে যা মন্দে রূপ নেয়—সংক্রামক ও ছোঁয়াচে মন্দে

হ্যাঁ, এমন একসাথে চলাও আছে—মন্দের মধ্যে একতা, এক ধরনের “অসুস্থ সিনডালিটি”, যা নিজেকেই কেন্দ্র করে এবং একটি পশ্চাদমুখী গতি সৃষ্টি করে—জীবন, প্রেম এবং ঈশ্বর থেকে দূরে

কিন্তু আরেকটি একসাথে চলা আছে—ঈশ্বরের দিকে, একটি মিশনারী যাত্রা, বহির্মুখী; “হৃদয় জ্বলন্ত, পা চলমান”—যা ক্লান্তিকর হতে পারে, রাতেও হতে পারে, কিন্তু সেই সাক্ষাতের আনন্দ দ্বারা চালিত, যা আমাদের পা ও হৃদয়কে ডানা দেয়, আমাদের মুক্ত করে, সুস্থ করে, আকৃষ্ট করে এবং আমাদের মধ্যে যীশুর প্রতি আকাঙ্ক্ষাকে প্রজ্বলিত করে

এটাই খ্রীষ্টীয় সিনডালিটি—একসাথে চলা— যা মিশনারী

যীশু  সেই দুই শিষ্যের সঙ্গে হাঁটেন যারা তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর অর্থ বুঝতে পারেনি এবং জেরুসালেম ও কমিউনিটি ছেড়ে যাচ্ছিল। তাদের সঙ্গ দিতে তিনি তাদের সাথে পথে যোগ দেন। তিনি প্রশ্ন করেন এবং ধৈর্যের সাথে তাদের কথা শোনেন, এবং এভাবেই তাদের অভিজ্ঞতাকে চিনতে সাহায্য করেন। তারপর ভালোবাসা ও শক্তির সঙ্গে তিনি ঈশ্বরের বাক্য ঘোষণা করেন এবং তাদের অভিজ্ঞতাগুলোকে শাস্ত্রের আলোকে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করেন। সন্ধ্যা হলে তিনি তাদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং তাদের সঙ্গে থাকেন। তাঁর কথা শুনতে শুনতে তাদের হৃদয় জ্বলে ওঠে এবং তাদের মন উন্মুক্ত হয়; তারপর তারা রুটি ভাঙার মধ্যে তাঁকে চিনতে পারে। এরপর তারা নিজেরাই তৎক্ষণাৎ বিপরীত দিকে যাত্রা শুরু করে—দলের কাছে ফিরে যেতে এবং পুনরুত্থিত প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে।”

পোপ ফ্রান্সিস যে ক্রিয়াপদগুলোতে জোর দিয়েছেন, তা আধ্যাত্মিক নির্ণয় প্রক্রিয়ার প্রধান ধাপগুলো নির্দেশ করে। বিচক্ষণতা অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে আহ্বান জানায় অন্তরের স্বাধীনতা চর্চা করতে, নতুনত্বের জন্য উন্মুক্ত থাকতে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি বিশ্বাসপূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে—যাতে তারা একে অপরকে শুনতে পারে এবং “পবিত্র আত্মা মণ্ডলীকে কী বলছে” তা উপলব্ধি করতে পারে (প্রকাশিত বাক্য ২:৭)।’

 

তিনটি ধাপ ও দুই ধরনের যাত্রা থেকে আমাদের জন্য কিছু শিক্ষা:

 

তাৎক্ষণিক ও বাহ্যিকতার উপর নির্ভরশীল বিশ্বাস ত্যাগ করা

আজও আমরা অনেক সময় হিসাব-নিকাশের মানসিকতা নিয়ে বিশ্বাস করি: আমি দেখতে চাই, নিশ্চিত হতে চাই। কিন্তু এম্মাউসের যীশু  আমাদের ভিন্ন পথে আহ্বান করেন—যেখানে আছে সান্নিধ্য, শ্রবণ এবং মিলন। এই পথ ধৈর্য ও দানশীলতায় গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে যীশু  আমাদের ভয়ের ও আত্মরক্ষার কাঠামো ভেঙে ফেলতে বলেন


শিক্ষার মাধ্যমে যে যীশুকে আমরা জানি, তিনি আমাদের আরও এগোতে আহ্বান করেন—নিজেকে দান করার পথে। তিনি আমাদের ভ্রান্ত ধারণা ত্যাগ করতে বলেন এবং নিজেকে আদর্শ্য হিসেবে তুলে ধরেন—ক্রুশ পর্যন্ত নিজেকে উৎসর্গ করেন। তাঁর দিকে তাকিয়ে আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতা চিনতে পারি এবং সাহসের সঙ্গে তা অতিক্রম করি

 

আতিথ্যের মাধ্যমে সত্যিকারের বিশ্বাস প্রকাশ পায়

এখানে আমাদের জন্য একটি শিক্ষা আছে। শুধু শিক্ষা দেওয়া যথেষ্ট নয়। মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতা, প্রশ্ন ও আশার সঙ্গে যীশুর বার্তাকে যুক্ত করে বোঝাতে হয়। এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, মনোযোগ ও দলবদ্ধতা। তখনই হৃদয়ের চোখ খুলে যায় রুটি ভাঙার মধ্যে তাঁকে চেনা: দেখা ছাড়াই উপলব্ধি একটি গভীর রহস্য এখানে আছে: ‘তাদের চোখ খুলে গেল, তারা তাঁকে চিনল, কিন্তু তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন।’ তারা তাঁকে দেখার মাধ্যমে নয়, বরং আতিথ্য ও মিলনের কাজের মাধ্যমে তাঁকে চিনতে পারল


দুই শিষ্য চাইলে যীশুর কথা অগ্রাহ্য করতে পারত। কিন্তু তারা তা করেনি। তারা নিজেদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে দিয়েছে। তারা হয়তো আশা হারিয়েছিল, কিন্তু আতিথ্য দেওয়ার ক্ষমতা হারায়নি। তারা এখনো দানশীল ছিল এই মুহূর্তেই পরিবর্তন ঘটে: তারা তাঁকে চিনেছিল আতিথ্য দেওয়ার মাধ্যমে। তারা যীশুকে নিজেদের সঙ্গে থাকতে বলেছিল, কিন্তু যীশু  তাদের মধ্যে বাস করতে শুরু করলেন

 

খ্রীষ্টযাগ : সমাপ্তি নয়, শুরু

এটাই সবচেয়ে গভীর সত্য। খ্রীষ্টযাগ শুধু স্মৃতি নয়, বরং খ্রীষ্টের উপস্থিতির জীবন্ত বাস্তবতা—নিজেকে দান ও ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে। এই অভিজ্ঞতার পর শিষ্যদের আর বারবার প্রমাণের দরকার হয় না। তারা আরও গভীর কিছু অনুভব করে


এটি রুটি ভাঙা গল্পের শেষ নয়, বরং নতুন শুরুর সূচনা। সন্ধ্যা নেমে এলেও দুই শিষ্য দ্রুত জেরুসালেমে ফিরে যায়—সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য। বাইরের অন্ধকার তখন আর তাদের ভেতরের আলোকে ঢাকতে পারে না। খ্রীষ্টযাগের শক্তি আমাদের বাইরে, অন্যদের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় এটাই খ্রীষ্টীয় বিশ্বাসের সৌন্দর্য—আশায় টিকে থাকা এবং দানশীলতায় বেঁচে থাকা


এই ঘটনাটি আমাদের শেখায়—জীবনে আমরা কখনো কখনো দুঃখ, হতাশা ও বিভ্রান্তির পথে হাঁটি। কিন্তু যীশু  আমাদের সঙ্গে থাকেন, আমাদের কথা শোনেন এবং আমাদের বুঝতে সাহায্য করেন যখন আমরা তাঁর কথা শুনি ও তাঁকে গ্রহণ করি, তখন আমাদের মন ও হৃদয় আলোকিত হয়। আমরা নতুন শক্তি পাই এবং অন্যদের কাছে সেই আনন্দের খবর পৌঁছে দিতে চাই

এটি আমাদের শেখায়—

  • একসঙ্গে চলা
  • একে অপরের কথা শোনা
  • ঈশ্বরের উপর ভরসা রাখা
  • এবং ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়া

এইভাবেই আমাদের জীবন আরও ভালো ও ঈশ্বরমুখী হতে পারে

         এম্মাউসের এই চিত্রের আলোকে, আমি আপনাদের সঙ্গে প্রার্থনায় এই অনুগ্রহ চাই—একটি সত্যিকারের, গভীর, সক্রিয় শ্রবণ, যা আপনাদের হৃদয়ে, সহভ্রাতা ও ভগ্নীদের মধ্যে এবং সমাবেশে আত্মার কার্যকলাপকে চিনতে সাহায্য করবে সমাজ, মণ্ডলী  ও পরিবারে থাকার  সময়ে, আত্মিক আগুন যেন উজ্জ্বল ও প্রজ্বলিত থাকে! এই আগুন যেন আপনাদের হৃদয় উষ্ণ করে তোলে, যাতে আপনারা উত্থিত যীশুর মাধ্যমে প্রাপ্ত আহ্বানকে সৃজনশীল বিশ্বস্ততার সঙ্গে নতুন করে উপলব্ধি করতে পারেন এবং ক্রমশ যীশু  খ্রীষ্টের প্রতি আরও অনুরাগী হয়ে ওঠেন, সমাজ, মণ্ডলী ও পরিবারের প্রতি নিবেদিত হন

 Courtesy: Fabio Attard, To Jerusalem, passing through Emmaus, SB, April 2026; Simona Brambilla, The Disciples of Emmaus,  GC29, n. 445, 2025.

Fr. C. L. MATHEW, SDB: 12 June 1943 — 30 May 2026

With deep sorrow and grateful remembrance, the Salesian Province of Kolkata announces the passing away of Fr. Chiriyankandath Mathew, SDB, w...